রায়পুরের এগারো গ্রাম এখনও অন্ধকারে
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১১টি গ্রামে কোন বিদ্যালয় নেই। বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিশু-কিশোর। এ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৯৫টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামে সরকারি ৮৪, বেসরকারি ৩১ -এই ১১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ১১টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো না পেয়ে জড়িয়ে পড়ছে শিশুশ্রমসহ নানা অমানবিক কাজে। অপরদিকে উপজেলার ২১টি সরকারিসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল, টয়লেট, শহীদ মিনার, পর্যাপ্ত টুল-বেঞ্চ, করণিক ও নৈশপ্রহরী নেই। এসব সমস্যার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দফতর ও মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে শিক্ষকরা জানান। যে ১১ গ্রামে বিদ্যালয় নেই তার কয়েকটি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। বর্ষায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হয় বাঁশের সাঁকো, নৌকা ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে। শুকনো মৌসুমে সচেতন কিছু পরিবার সন্তানদের পার্শ্ববর্তী কোন বিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য ভর্তি করলেও বর্ষায় আর লেখাপড়ার সুযোগ হয় না। এ কারণে ওই গ্রামগুলোর শতশত শিশু লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের এ গ্রামগুলোয় শিক্ষার হার আরও কমে যাবে। খাসেরহাট চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ও গাইয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন আহমদ বলেন, বর্ষায় চারদিকে পানি থাকায় এবং রাস্তাঘাট কাদামাটিতে একাকার হওয়ায় কোন অভিভাবকই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে শিশুদের দিতে চান না। উপজেলার যে ১১ গ্রামে বিদ্যালয় নেই সেগুলো হলো- কানি বগারচর, হাজিমারা সøুইস গেট, জালিয়ারচর, নিউ চরকাছিয়া, দক্ষিণ চরমোহনা, পশ্চিম দেবীপুর, উত্তর-পূর্ব দেবীপুর, দক্ষিণ-পশ্চিম রাখালিয়া, মধ্য চরলক্ষ্মী, চরলক্ষ্মী। সম্প্রতি শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যালয়শূন্য ১১ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ২১টি বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল ও টয়লেট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। বিদ্যালয়ে টয়লেট না থাকায় শিশুরা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে। এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পশ্চিম সাগরদী, রাখালিয়া, কেরোয়া, কেওয়াডুবি, হায়দরগঞ্জ টিআরএম, ঝাউডুগী, চরআবাবিল এসসি, পশ্চিম চরআবাবিল, মধ্য সাগরদী, দক্ষিণ উদমারা ও সাইচা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২১টিতে টিউবওয়েল ও টয়লেট নেই। অপরদিকে বিদ্যালয়গুলোতে করণিক ও নৈশপ্রহরী না থাকায় একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হন শিক্ষকরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য যোগাযোগবিচ্ছিন্ন সড়কগুলো সংস্কার করে ১১টি গ্রামে স্কুল স্থাপন করা প্রয়োজন।
-তাবারক হোসেন আজাদ |